তখন তোমার অনন্ত আকাশ জুড়ে খেলাঘর
মেঘ পোয়াতি রোদ্দুর আর –
ডাহুক পাখিটির ডানার মতো
হাজার নক্ষত্র আঁকা,
সোহাগী চাঁদ যায় বুঝি বুড়ি জলে ভেসে।
মেঠো পথে ধুলোমাখা কিছু রোদ্দুর
আর – অন্ধকারে দ্রবীভূত পেঁচার ডাক।
অতি বৃদ্ধ বটগাছ – তার দীর্ঘ ছায়াপথে
হামাগুড়ি দেওয়া অলস সকাল।
প্রতিপদে আধ-খাওয়া চাঁদ – যেন –
বানভাসি – সোনালী মেঘের স্রোতে –
খেয়ালী শিশুর হাতে ছাড়ানো কিছু –
রুপোর দানা –
ভোরের শেষে – যখন –
আঁচল পেতে ঘুমাতে যায় ক্লান্ত রাত্রিরা সব।

সেদিন তোমার অনন্ত আকাশ জুড়ে ছবিঘর –
আম কুড়াতে ব্যস্ত কিছু দুপুরের অশান্ত রোদ্দুর –
পাতায় পাতায় মত্ত কালবোশেখি – শেষ হলে পর –
সদ্য স্নাত – মিঠেল – হাওয়া –
আনমনা খিড়কি দিয়ে হঠাৎ দেখা –
আর ভোরের অভিসারে ক্লান্ত কিছু শিউলি।

আমিও মিশে যাব।
সেই সব নাদিটিরে ফেলে – যেথা –
হিমেল হাওয়ার স্রোতে – ডিঙি বায় –
একরত্তি পালে তার দুরন্ত নেশা –
ফাগুনে বসন্ত এসে – ভেসে গেছে –
নিয়ে গেছে – নিয়ে গেছে তারে –
জননীর কোল ছেড়ে অনন্ত সাগরে
মিশে যাব – ।
তখনও তোমার শুধু অনন্ত আকাশ জুড়ে দিগভ্রান্ত নেশা।
মরমে পরশ তার –
মৃত্যুঞ্জয়ী শুভ নহবত।

 


 

Tagged with →  
Share →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *