“নাক কাটা রাজা রে 
দেখ তোর কেমন সাজা রে।।”
ছোট বেলার এই গল্পটা আমরা সবাই পড়েছি। অল্প বিস্তর মনেও আছে নিশ্চয়।  সেই যে এক রাজা ছিল – আর রাজার মনে ভারী হিংসা – টুনি – মানে টুনটুনির প্রতি।  থাক বাকিটা মনে করুন – আমি বরং অন্য এক কবিতা শোনাই।
 
 
তোমাকে রাজা বলতে ভারী ঘৃণা হয় –
                   তুমি যদি রাজা হবে তবে আমি কে ?
ছোট্ট একটা টাকার নেশায় কখনো আস্ত টুনি গিলে নাও  –
ছোট্ট একটা টাকার নেশায় কখনো আস্ত টুনি  ভেজে খাও।
ছোট্ট একটা টাকার নেশায় কখনো উদ্ধত তলোয়ার –
আজও শুনি –
সেই সাত নাক কাটা রানীদের কি ভীষণ হাহাকার।
                  যদি তুমিই রাজা হবে তবে আমি কে ?
 
                               সাজা ?!
প্রতিহিংসায় নগ্ন উদ্ধত
লোভে চিক্কণ হিংস্র বীভৎস অবয়ব
তবু উদ্ধত দুহাত তুলে বলেছিলে –
          সাজা চাই সাজা –
                          সাজা –
সাজা তো তুমিও কম পাও নি রাজা –
টুনি ভেবে কেমন খেলে আস্ত একটা ব্যাঙ ভাজা ?
তুমিই কি সে রাজা –
এক টুনি কি বলেছিল
এক টুনি কি ভেবেছিল –
              মনে মনে
এত মান এত সম্মান – যশ ঐশ্বর্য ভুলে –
                      শুধু তাই ভেবে নিলে –
তুমিই যদি রাজা হও, তবে আমি কে ?
 
এবারটা অন্য গল্প –
তবু গল্প জুড়ে শুধু তুমিই –
আর নির্মম লোভ –
আরও আরও বীভৎস – নির্মম সাজা।
বনিকের করাল বর্বর লোভ –
যে তোমাকে নগ্ন বিবস্ত্র করে –
স্তাবকের তুমুল বাহবা আর প্রশংসা –
                            হায় –
হায় হতভাগ্য রাজা –
তোমাকে আরও অপদস্থ হওয়ার আগে –
সেই সরল নিষ্পাপ দুটি চোখ –
কোথায় গেল?
 
প্রেক্ষাপট সামান্য বদলাও –
দেখো লোভে চিক্কণ – দুটি চোখ –
আত্ম গর্বে – দর্পে – অত্যাচারী
আর এক রাজা।।
শুধু ভুতের রাজা আর মগজ ধোলাই –
শেষে এ যাত্রায় ভূলুণ্ঠিত – দর্প – নিজের হাতে ।।
যদি তুমিই রাজা হও তবে আমি কে ?
 
                                  হে রাজন –
কোথায় গেল তোমার সেই রাজকীয় অহং –
কোথায় গেল তোমার সেই ক্ষত্রীয় ধর্ম –
রাজসিক ধৈর্য স্থৈর্য বীর্য –
কোথায় গেল তোমার সেই  পুত্রবৎ স্নেহ – মমতা – বাৎসল্য।।
স্তব্ধ করো রুদ্ধ করো এ ঠগ প্রবঞ্চনা –
নিঃশেষিত করো হে পৌরুষ-কান্তি
শঠতা ক্রূরতা খলতা যত -।।
তুমি ধীর – তুমি স্থির –
তুমি অচঞ্চল – তুমি ন্যায় – ।
                         তুমিই সেই –
ক্ষত্রীয় ধর্ম হতে বিরূপ নাহি হয়।
 
                     হে রাজন –
তোমাতেই অধিষ্ঠাত্রী দশভুজা
তোমাতেই সরস্বতী – বাণিজ্য লক্ষ্মী –
তুমিই বীর সেনাপতি –
তুমিই সেই অসুর নিধনকারী
পিতৃসম সবার ভূপতি।।
তুমিই বিচারক –
ধারক বাহক – শাস্তি প্রদানকারী
বীর প্রতিপালক।
 
মুক্ত কর’ – মুক্ত কর’ –
আপনাকে মুক্ত কর’ –
সহস্র শৃঙ্খল হতে –
চটুল বর্বর – ষড়রিপু  হতে –
মুক্ত কর’ – মুক্ত কর’ –
উৎসর্গ কর’ আপ’নার –
এই পবিত্র প্রাণ।।
 
তবে কেন –
কেন বারবার ফিরে ফিরে আসে
               সেই রাজা –
               সেই লোভ –
সেই জিঘাংসা –
সেই হিংসা জগদ্দল –
আত্মগ্লানি ভুলে – কেন ফিরে আসে –
সেই নিষ্ঠুর রাজার দল ?!
 
 
না কবিতা আমার শেষ হয় নি।।
এ কবিতা তখনি শেষ হবে – যদি কখনো  সেই রাজা দেখি, যে রাজাকে নিয়ে এভাবে আর কখনো কাউকে লিখতে হবে না।  

 

 


 

Tagged with →  
Share →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *