ওপার বাংলায় দ্যাশ আমার;
ফরিদপুরে ভিটে।
বাবা সকালে উঠে গামছা গলায়,
লাঙলে হাত দিত,
আর মা, আমার আর ভাইয়ের জন্য রান্না চাপাত।

পান্তা ভাত খেয়ে আমি আর ভাই পেয়ারা গাছে উঠতাম চড়ে,

“ও বালি! বাবু আয়, একবারটি এদিকে, বাবুর খাবারটা দিয়ে আয়।”
“আসছি মা! এই দিদি আরেকটু পরে।”

পাশের গাঁয়ের দুলাল চাচা নাম রেখেছিল বালি। ওর মেয়েটা কালাজ্বরে মরেছে,
ছেলেটা বোধহয় বর্ডারে আর বৌটা! আস্ত পাগলি!

পুকুরের ধার ঘেষে যাচ্ছিলাম,
দেখছিলাম শিবু আর পিসি কে,
দেখছিলাম লম্বা চুল কতটা,
যাচ্ছিলাম বাবুর পাঠশালার ওপাশ দিয়ে।

বাবু যখন ছোট ছিল,
আমার কোলে ঘুমোতোইনা,
আমি মারলে খিল-খিল করে উঠত হেসে।
‘খোকা ঘুমাল, পাড়া জুরাল, বর্গি এল দেশে..’

এক রাত্রে কি যে হল, কে জানে,
সেরম কিছু মনে নাই,
কেরম পোড়া পোড়া গন্ধ, কালো কালো ধোয়া,
লোকের হাহাকার, চিরবির আওয়াজ,
হঠাৎ মা বাবুকে আর আমাকে টেনে তুলে,
ছুড়ে ফেলল বাইরে, পিছনের বাঁশ বাগানে।
“পালা বালি পালা! বালি পালা!”
আমি ছুটলাম, খুব ছুটলাম।
দুটো লোক মশাল নিয়ে ধেয়ে আসছে,
আর বাবু?
নেই আমার পাশে।

চোখ খুলল কাঁটাতারের পাশে,
বর্ডারের কাঁটাতার।
কাপড়টা পাশ দিয়ে এক হাত ছেঁড়া।
পেরোলাম কাঁটাতার,
পেরোলাম ধান খেত,
পেরোলাম অজস্র কাদা,
পেরোলাম আগের রাতের ধোঁয়া,
পেরোলাম মুক্ত বাতাস,
পেরোলাম দুলাল চাচার ছাই হয়ে যাওয়া ঘর,
পেরোলাম রক্ত,
পেরোলাম পোড়া হাট,
পেরোলাম দানগুলির গুটি,
পেরোলাম বুবুর টুকরো কাপড়,
পেরোলাম ছেঁড়া রুটি।
পেরোলাম পুলিশ,
পেরোলাম সূর্যের আলো,
আর পেরোলাম বালি…
বালি…
বালি… বালি…

Tagged with →  
Share →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *